Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

ভাউলিয়া


নদীকে আপন করা ছাড়া
উদাসীর আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নাই
দরিয়ার পানি তাকে সাকিন ভোলায়
লাউডগা মন যায় ভিটে-মাটি ছেড়ে

শুরু হয় বাস্তুহীন প্রেম-প্রেম খেলা ...

তোমাকে ...




আমার সম্পদ শুধু একঘড়া জল --
এসো , ডুব দাও অতল গহীনে
তুলে আনো বিষন্ন ঝিনুক ।

আর সেই ঝিনুকবালা
ডাগর-ডোগর মেয়েটি , মুক্তো
হেসে উঠুক তোমার নাকে , নাকছাবিতে ...

ন-য়ে নারী




ন-য়ে নারী মাটির খোলস ...

অতএব পায়ের তলার উছল জমি
ধর্ষণে ও কর্ষনে নাবাল হোক ।

নিষিদ্ধ জীবন



।। ১।।

শিশিরের দানা মাখা জঙ্গী যুবক
আচম্বিত দেখে ফেলে বুক খোলা নদী
পড়শিরা চোখ ঢাকে এই বুঝি কেলেঙ্কারি হয়
নষ্ট মুহূর্তগুলি এই ফাঁকে আরো নষ্ট হয় ।

।। ২ ।।

যতই সতর্ক থাকো ,
পুরোনো অভ্যাসবশে খুলে রাখো
ইশারার হাজারদুয়ার ...
লজ্জায় বিমূঢ় চোখ
ইশারায় ডুব দিয়ে বিনষ্ট আবার ।

।। ৩ ।।

তোমার নিষিদ্ধ জীবন আস্তিনে উঁকি মারে
ধরাশায়ী রাধিকার দল --
গুপ্ত উল্লাসে ঘাসবনে ঢেউ তোল
বাঁধ ভাঙে মেঘভাসি জল ।

।। ৪ ।।

দেহাতি হৃদয় ভেঙে কদাচিৎ গান জেগে ওঠে
খুচরো জীবনসূত্র খুঁজে পায় আন্তরিক স্বাদ--
দিন ভাঙে প্রতিদিনে নিশিথ স্নানের মতো
ভুল ভেবে তুমি গোন নিঝুম প্রমাদ ।

অভিসার


।। এক ।।

এক নদী কু্ল ভেঙে ছুঁয়ে যায় কিশোরীর মন
অগত্যা কিশোরীও কুল ভাঙে মনের তাগিদে

আপাত নিরীহ মধ্য যামিনী
আড়চোখে চেয়ে থাকে কদম্ব কাননে ।

।। দুই ।।

বেহায়া মোহনবাশিঁ ঘরের দাওয়ায়
গেরস্থালির তাকে এসে বসে--কথা বলে -- পোড়ায়
আলকাটা মেঠোপানি পাঁজড়ে ছলকে ওঠে
নীলসুখে পরাণ জুড়ায় ...


খেলাশেষে উজানে ভেসে চলে মন
বৃক্ষমূলে চোরাটান পথিক জীবন ।

মাথুর



দহনে আতপ্ত দেখে
নদীবউ ঢাকে তার কলাবতী বুক,
হাড়বজ্জাত গাছটাও টিপ্পনি কাটে
ক্ষতের তুলসিপাতা চুপ ।
সুখি সুখি মেঘপরী আনবাড়ি যায়
শুধু থাকে আজন্মের স্মৃতি
নিদানে মৃত্যুরও চোখ ঢাকে
সহজ বিস্মৃতি ।

অনিকেত



তোমাকে ছুঁয়েছে জল ,চিকন নদীও
অভিমানে পোড়ে তাই মাটির পাঁজর
তবুও বীতশোক তুমি যাও জলে
ঘরভাঙা ঢেউয়ে ভাস খড়কুটো হয়ে ...

বাসর



বাসি ফুল -- কুঁদুলে আকাশ -- এমনকি ধিঙ্গি মেঘ পর্যন্ত,
সবাই তৈ্রী ছিল ।


টলটলে পাপ চান করতে নামতেই
ওদেরও একডুব বাড়ির পুখুরে --


পোড়া খেত একা জাগে শূন্য বাসরে ...

মাঝি





নদীর মলাট জুড়ে ভেসে থাকে মাঝি
না -- কোনো নৌকো নেই । নেই কোনো মাছ ধরা জাল ।
দাঁড় কিম্বা ভাঙা নৌকোর জলে ভাসা কাঠ--তাও নেই।
চারদিকে শুধু ছপছপ জল ... জল , শুধু জল আর জল ...


জলেভাসা মাঝি তুমি পাড়াগাঁ কতদূর জান ?
একা বসে ভাব বুঝি দূরগাঁর বধূটির কথা?
মালকোঁচা ধূতি পরে তাকে নিয়ে চলে যাও চড়ক মেলায়
মাঝিবউ কিনে নিক মাটির সরা আর লোহার কড়াই ।
এরপর ঘরে ফিরে গহীন নদীর বুকে খেয়া পারাপার --

বদর --বদর , ফিরে দাও ভাঙা চালাঘর আবার ।

ভালোবাসা


হলুদ জলের মতো গড়ানো রোদ্দুরে
পা ফেলে উঠে আসে যে প্রেমিক
তার চোখে চোখ রাখতেই
সময় থমকে যায় দু-চার মিনিট ;


বিষাদ স্বপ্ন তখন জলগামী হয় --
শেষ দেখাশোনা শেষে সন্তত পাটখেতও
উদাসীন হয় ।

স্মৃতি


স্মৃতি : ১

ভুল করে ঘুমন্ত নদীতে পা ঠেকাতেই
অলস ঢেউ জাগে বারোমাসি স্রোতে ।

স্মৃতি : ২

কিছু স্মৃতি শস্যভূমির মত
বিনাস্নানেও শরীরে জড়ানো থাকে কুমারী শুচিতা
আচম্বিত ধূপগন্ধে শুদ্ধি হয় তৃতীয় ভুবন
চেতনার পথ ধরে নেমে আসে আপন্ন দহন

স্মৃতি : ৩

অন্ধকারে তুমি এসে অবিমৃশ্য পাপ ধুয়ে গেলে
বুকের মেঝেতে গড়ায় শিশিরের দানা ...

নদী জানে এইসব গোপনীয় কথা
ভালোবাসা-বাসি শেষে --
থাকে শুধু পূজনীয় ব্যথা ।

কোনারক




পাথড়ের নাইকুন্ডে জমে থাকা জল
পান করি অগস্ত্য চুমুকে ;
জলের দেবতা হাসে , দুঃখমাটি যায় ভেসে
পাষাণ প্রতিমা নারী পোড়ে ভালবেসে ।

যাঁকে ঘিরে আমার অস্তিত্ব ...

যাঁকে ঘিরে আমার অস্তিত্ব ...